কাফেরের পরিচয় ও শ্রেণী বিভাগ উল্লেখ কর।
কাফেরের পরিচয়: কাফির বা কাফের একটি আরবী শব্দ। এটি আরবী কূফর ধাতু থেকে নির্গত। এর শাব্দিক অর্থ ঢেকে রাখা, লুকিয়ে রাখা। আর পারিভাষিক অর্থ অবাধ্যতা, অস্বীকার করা, অকৃতজ্ঞতা। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় কূফর ঈমানের বিপরীত। অর্থাৎ মহান আল্লাহু তা’য়ালা ও তাঁর রাসূলকে (সা:) বিশ্বাস না করা ও তাঁদের প্রতি মান্যতা না থাকার নাম কূফর। আর যে বা যারা এ কূফরে অবস্থিত তাদেরকে বলা হয় কাফের বা কাফির। কোন মানুষ মুসলিম ঘরে জন্ম গ্রহণ করুক বা অমুসলিম ঘরে জন্ম গ্রহণ করুক; কালিমা ত্বায়্যিবাহ, কালিমাতুশ্ শাহাদাহ্, ঈমানী মুজমাল, ঈমানী মুফাস্সাল, কালিমা তামজিদ ও কালিমা তাওহিদের অর্থের দিকে খেয়াল করে [অর্থ সমূহ এ রকম-1. কালিমা ত্বায়্যিবাহ: আল্লাহু তা’য়ালা ব্যতিত (ঈবাদাতের উপযুক্ত) আর কোন মা’বুদ নাই। হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহু তা’লার রাসূল। 2. কালিমাতুশ্ শাহাদাহ্: আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহু তা’য়ালা ব্যতিত ঈবাদাতের উপযুক্ত আর কোন মা’বুদ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিতেছি যে, হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহু তা’লার বান্দা ও রাসূল। 3. ঈমানী মুজমাল: আমি ঈমান আনিলাম সর্ববিধ নাম ও গুণ বিশিষ্ট আল্লাহু তা’য়ালার উপর এবং তাঁর সমস্ত হুকুম মেনে নিলাম। 4. ঈমানী মুফাস্সাল: সাতটি জিনিসের উপর ঈমান আনতে হবে। অর্থাৎ মনে অকাট্যরূপে বিশ্বাস এবং মুখে স্বীকার ও কাজে পরিণত করতে হবে। যা হচ্ছে- আল্লাহু তা’য়ালার উপর বিশ্বাস, তাঁর ফেরেশতাগণের উপর বিশ্বাস, তাঁর কিতাব সমূহের উপর বিশ্বাস, তাঁর রাসূলগণের উপর বিশ্বাস, কিয়ামতের দিনের উপর বিশ্বাস, ভালোমন্দ তাকদীরের উপর বিশ্বাস ও পুনরায় জীবিত হওয়ার উপর বিশ্বাস। 5. কালিমা তামজিদ: আল্লাহু তা’য়ালা পবিত্র। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহু তা’য়ালার জন্য। আল্লাহু তা’য়ালা ব্যতিত আর কোন মা’বুদ নাই। আল্লাহ সবচেয়ে বড়। আল্লাহু তা’য়ালার শক্তি ও সাহায্য ব্যতীত নিজের বা অন্য কারোর একে অন্যের দু:খ নিবারণ করবার বা সুখ দান করবার কোনই শক্তি কারো নাই। 6. কালিমা তাওহিদ: এক আল্লাহ ব্যতিত আর কোন মা’বুদ নাই, তাঁর কোন শরীক নাই। তিনি সকল বাদশার বাদশাহ। (তাঁর জন্য পূর্ণ বাদশাহী) তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা। তিনি জীবন দান করেন, তিনি মৃত্যু দান করেন, হায়াত ও মাউত তাঁরই হাতে। তিনি চিরঞ্জীব, তিনি কখনো মরিবেন না। তিনিই রিযিক ও ধন-দেীলতের মালিক। তাঁরই হাতে সমস্ত মঙ্গল। তিনি সর্বশক্তিমান।] এ ক্বালিমা সমূহের সামান্য একটি কথায় বা যে কোন বা সবগুলো কথায় যার বিশ্বাস হবে না অথবা কিছুতে বিশ্বাস হবে, আর কিছুতে বিশ্বাস হবে না; অথবা সব গুলোতে বিশ্বাস হবে, শুধু একটি কথায় বিশ্বাস হবে না বা অবিশ্বাস হেতু বিপরীত আমল করবে, তবে তাকে কাফের বলা হবে। অন্যদিকে অমুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করার ফলশ্রুতিতে ছোট বেলা থেকেই উপরোক্ত বিষয় সমূহের বিপরীত আমল করা অথবা এ কারণে সিস্টেমেটিক্যালী এগুলো না মানা অথবা মানতে অস্বীকার করা, এ ধরনের ব্যক্তিগণকেও কাফের বলা হবে। এছাড়া এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কবীরা গুনাহ সমূহের বিবরণ, পাঠ-1 এর দুই নং ক্রমিকের ছাব্বিশটি উপক্রমিকে বর্ণিত বর্ণনা অনুযায়ী লিখিত বিষয়গুলিতে যদি কেউ জেনে বুঝে স্বজ্ঞানে আমল করে, তবে সে মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করুক বা অমুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করুক, তবে তিনিও অবশ্যই কাফের হিসেবেই সাব্যস্তকৃত হবে। অপরদিকে যদি কেউ কাফের হয়ও তবুও তার সাথে মুসলমানদেরকে শরীয়ত অনুযায়ী সম্মানজনক ব্যবহার বা ন্যায়-নিষ্ঠ ও আন্তরিক সামাজিক লেনদেন করতে হবে। ইহা এ কারণে যে, মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। মহান আল্লাহু তা’য়ালা অমুসলিম বা নাস্তিক সহ সকল মানুষকেই অতি মুহাব্বত করে সৃষ্টি করেছেন এবং সকল মানুষকেই ইন্তিকালের আগ পর্যন্ত ঈমান আনয়নের সুযোগ দিয়েছেন। আর তাই এমণও হতে পারে যে, আজকে আপনি যাকে বেঈমান বলে, অমুসলিম বলে ঘৃণা করছেন, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছেন; এতক্ষণে হয়তো তার ভিতরেই ইসলামের প্রতি বিশ্বাস জন্মে গিয়েছে, যা আপনি জানেন না বা জানার সুযোগ নাই; একটু পরেই হয়তো তা প্রকাশিত হবে। হয়তো আজকের এ কাফের লোকটিই ইন্তেকালের আগ মূহুর্তে ঈমান এনে খাঁটি মুসলমান হিসেবে ইন্তেকাল করবে; যা আপনার ভাগ্যে হয়তো জুটবে না। এছাড়া মূল কথা হচ্ছে মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব, সকল মানুষকে এক আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন । তাই কোন ধর্মের বা কোন নাস্তিক মানুষকে তুচ্ছ করা বা অপমান করে কথা বলা বা ব্যবহার করা বা অপমাণজনক, ঝুলুম ও তার ক্ষতি হবে বা অযুক্তিক মনেকষ্ট যাবে এ রকম লেনদেন তার সাথে করা যাবে না। সেই হেতু মুসলিম-অমুসলিম কাউকেই বেঈমান, মোরতাদ, কাফির, মুনাফেক এ জাতীয় শব্দ বা প্রচলিত হেয় বা অসম্মানজনক অন্যান্য শব্দ ও বাক্য বা উপমা বা চোখের দৃষ্টি বা ইশারা ইঙ্গিত এসব কথা বা ব্যবহার কারো প্রতি করা যাবে না। যেহেতু এ শব্দ বা বাক্য বা ইশারা-ইঙ্গিত গুলি সামাজিক বা ব্যক্তিগত অপমানেরই পরিচয় বহন করে। মনেরাখতে হবে মানুষকে অপমাণ করা (সে যে ধর্মেরই হোক বা নাস্তিকই হোক) একটি অনেক বড় ধরনের অপরাধ, যা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিযোগ্য কবীরা গুণাহ্।
কাফেরের শ্রেণীবিভাগ: বিশ্বাসের প্রকৃতি অনুযায়ী কাফের তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:-
1. স্বঘোষিত অমুসলিম বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর সদস্যবৃন্দ; নাস্তিক (যারা এ বিশ্বজাহানে অবস্থিত মানুষ সহ কোন সৃষ্টিরই সৃষ্টিকর্তা আছেন, এ কথায় বিশ্বাস করেন না; তারা বলেন, এগুলো প্রকৃতি, এগুলো এমনি এমনি হয়েছে বা এগুলো এ রকমই থাকে, এ রকমই থাকবে; এগুলোর কোন সৃষ্টিকর্তা নেই। আর তাই সেই হেতু তারা সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহু তা’য়ালার জাত বা কোন সিফাতে, মানে গুণ বা বৈশিষ্ট্যে বিশ্বাস করেন না ); মোরতাদ ( এতদিন মুমেন বা মুসলিম ছিলো, এখন শয়তানের তাড়নায় পড়ে বা স্বীয় নফস বা রিপুর কারণে বা শয়তানী জ্ঞান বা যুক্তির কাছে হার মানার কারণে বা যে কোন কারণেই হোক না কেন দূর্ভাগ্যবশত: উপরে উল্লেখিত কাফের হওয়ার শর্ত বা আমল সমূহের এক বা একাধিক বিষয়ে বিশ্বাস হারানোর কারণে বা তদহেতু ঈমানের বিপরীত আমল করার কারণে ও এতে দায়েম ও কায়েম থাকার কারণে [এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত, ইসলামের পরিচয় সিরিজের চতুর্থ প্রবন্ধের (কবীরা গুনাহ সমূহের বিবরণ, পাঠ-1) দুই নং ক্রমিকের ছাব্বিশটি উপক্রমিকে বর্ণিত বর্ণনা অনুযায়ী] এরা সহ এ তিনটি উপশ্রেণীর লোককে কাফের বলা হবে।
2. মুনাফেক: মুনাফেক আরবী শব্দ। এর অর্থ হলো ভন্ড, কপট বা দুই মুখো। ইসলামের প্রতি প্রকাশ্যে আনুগত্য ও অন্তরে এর বিপরীত অবস্থান বা ঘৃণা করার নাম মুনাফেক।মুনাফেকেরাও আসলে কাফের। উপরে উল্লেখিত সাধারণ কাফের থেকে এদের শাস্তি আরো অনেক বেশি হবে। পারিভাষিক ভাবে দুই ধরনের ব্যক্তিকে মানুষ মুনাফেক বলে অভিহিত করে। এক) বিশ্বাসগত ও দুই) আমলগত। মূলত বিশ্বাসগত ব্যক্তিগণই মুনাফেক এবং শুধুমাত্র এদেরকে উদ্দেশ্য করেই পবিত্র কোরআন শরীফে বলা হয়েছে এদের স্থান জাহান্নামের সর্ব নিম্নস্তর। অপরদিকে আমলগত মুনাফেকগণ যদি বিশ্বাসগত না হয়; অর্থাৎ বিশ্বাসে যদি তারা মুমেন হয়, তাহলে তারা মূলত মুনাফেক নয়; তারা মুসলমান। তবে কঠিন শাস্তির উপযুক্ত; যেহেতু তাদের মধ্যে রয়েছে মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্যে বা মুনাফেকদের স্বভাবে তারা বদ-আমল করছে। এদের বদ-আমলের কারণে অনেকে বা স্বাভাবিক ভাবেই তাদেরকে শাস্তি বা ঘৃণা স্বরূপ শুধুমাত্র এদেরকে মুনাফেক হিসেবে অভিহিত করে বা করতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আসলে এরা কখনোই মুনাফেক নয়। কারণ একজন মুসলমানকে, সে যতই পাপ করুক, তাকে আমরা কখনোই মুনাফেক (মানে কাফের) বলতে পারি না; এ অধিকার মহান আল্লাহু তা’য়ালা আমাদেরকে দেননি। সুনির্দিষ্ট ভাবে ইসলামিক প্রশাসনের বিচারে অথবা সম্মানিত মুফতিবৃন্দের ফতোয়ায় কাউকে মুনাফেক বা কাফের হিসেবে রায় না দিতে পারলে; তবে এ ধরনের কাউকে মুনাফেক বা কাফের বা যিন্দিক (এর বর্ণনা পরে দিচ্ছি) বলা যাবে না। তবুও যদি কাউকে দলগত বা পীরতন্ত্রগত বা সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক কারণে বা মতাদর্শের ভিন্নতা হেতু বা যে কোন ভাবে প্রতিহিংসা বা দমন-পীড়নের উদ্দেশ্যে বা শুধুমাত্র প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে বা শুধুমাত্র আপনার নেতা বা পীর সাহেব, প্রমাণবিহীন যে কারণেই হোক বলার কারণে, আর আপনার তার প্রতি অতি ভক্তির কারণে; কাউকে মুনাফেক বা কাফের বা যিন্দিক বা নাস্তিক বা মোরতাদ হিসেবে সাব্যস্ত করেন; তবে সাবধান! কাল কেয়ামতে এবং এমণকি এর তাছির স্বরুপ যে কোন ভাবে এ দুনিয়াতেও এর কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক, অসহ্য আযাব ও শাস্তি হয়ত আপনাকে প্রত্যক্ষ করতে হবে (আল্লাহু তা’য়ালা মাফ না করলে)। আবারও সাবধান করছি! যদি শুধুমাত্র উপরোক্ত কারণে বেহুদা কাউকে কাফের সাব্যস্ত করেন বা বলে বেড়ান, তবে হয়তো এর শাস্তি স্বরুপ আপনাকেই কাফের হিসেবে ইন্তেকাল করতে হবে। কারণ যদি কাউকে কোন তোহমত দেন, আর তিনি এর উপযুক্ত না হলে; তাহলে তা আপনার উপরই পতিত ও বর্তিত হবে (আল্লাহু তা’য়ালা মাফ না করলে)। হাদিস শরীফে মুসলমানদের প্রতি এভাবেই বলা আছে।
এক) বিশ্বাসগত বা প্রকৃত মুনাফেক: যাদের আল্লাহু তা’য়ালার উপর বিশ্বাস নাই (উপরে উল্লেখিত বর্ণনা মোতাবেক); অথচ পারিবারিক বা সামাজিক বা সাংগঠনিক বা রাষ্ট্রীয় বা সাম্প্রদায়িক সুবিধা হাসিলের জন্য অথবা অন্য কোন স্বার্থসিদ্ধির জন্য বা মুসলমানদের ক্ষতি বা তাদেরকে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে কৌশলের জন্য বাহিরে মানে মানুষের বা সমাজের সম্মুখে মুখে এবং কাজে মুসলমানদের কাজ, ইবাদত ও কৃষ্টি-কালচার সমূহ সমাধা করে ও নিজেদেরকে মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেয় ও দাবী করে; অথচ মনোগত বা ভিতরগত বা ঈমানগত ভাবে আসলে এরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে (সা:) বিশ্বাস করে না; এ ধরনের মানুষগণ কখনোই মুসলমান নয়; এরাই প্রকৃত মুনাফেক (কাফের)। যেমন, রাসূলুল্লাহ (সা:) এঁর সময়ে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই, স্পেনে আমর ইবনে হাফসুন, পশ্চিমবঙ্গে মীরজাফর ও তাদের অনুসারীবৃন্দ। এরা স্ব-জাতীর প্রতি বা স্বীয় মতাদর্শের প্রতি অবিশ্বাসী বা দূ-মুখো বা মুনাফেক। যারা উপরদিয়ে স্ব-জাতির পক্ষে পরিচয় দেয়; অথচ ভিতরগত ভাবে বা বিশ্বাসগত ভাবে বা বাস্তবিক ভাবে এরা স্ব-জাতির বিপক্ষে বা স্ব-জাতির শত্রুদের পক্ষে কাজ করে। অবশ্য মুসলমানদের মধ্যে বর্তমানে এ ধরনের বিশ্বাসগত মুনাফেকদের সংখ্যা তেমন একটা নেই বলেই মনে করি। তবে সাবধান! আপনি বা আপনারা যদি কাউকে এ ধরনের বিশ্বাসগত মুনাফেক মনে করেন এবং তা বলে বেড়ান; একটু চিন্তা করবেন, হয়তো তিনি বিশ্বাসগত মুনাফেক নয়; তার সাথে হয়তো শুধু মুনাফেকদের বৈশিষ্ট্যের মিল রয়েছে এবং সে ঈমানদার। আর এ জন্য আপনি তাকে সত্যিকার মুনাফেক বলতে পারেন না। তাই কাউকে বেহুদা মুনাফেক, কাফের এ জাতীয় ভাষা উচ্চারণ করে নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনবেন না।
দুই) আমলগত মুনাফেক: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) একটি হাদিসে মুনাফেকদের আলামত বা বৈশিষ্ট্য তিনটি বলেছেন এবং অপর আরেকটি হাদিসে চারটি বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন-
ক. এরা কথা বলতে মিথ্যা বলে।
খ. এদের নিকট কেউ কোন কিছু আমানত রাখলে, এরা এর খেয়ানত করে।
গ. কাউকেও কোন ওয়াদা বা অঙ্গীকার দিলে, এরা এর খেলাফ বা ভঙ্গ করে।
ঘ. এরা অশ্লীল গালিগালাজ করে।
যারা বিশ্বাস গঠীত মুনাফেক, তাদেরতো এ অভ্যাস গুলো থাকবেই; যেহেতু ইহা রাসূলুল্লাহ (সা:) এর হাদিস। অপরদিকে বাস্তবে যারা মুনাফেক বা কাফের নয়, বরং ঈমানদার; কিন্তু বিভিন্ন পাপের কারণে বা যে কারণেই হোক না কেন এদেরও উপরোক্ত এ স্বভাবগুলো থাকতে পারে বা থাকে। কিন্তু এরা কখনোই মুনাফেক নয়। এরা শুধু মুনাফেকদের অভ্যাস বা ব্যবহারে আমল করে জীবন-যাপন করছে। আর যেহেতু এগুলো মুনাফেকদেরই অভ্যাস বা ব্যবহার, তাই এরা কঠিন শাস্তির উপযুক্ত। কিন্তু তাই বলে এরা মুনাফেক নয়। অতএব, হাদিসে উল্লেখিত শুধুমাত্র কারো ব্যবহার দেখে অনুমানের মাধ্যমে বা নিজে নিজে বিচার করে কাউকে মুনাফেক সাব্যস্ত করা যাবে না এবং একজন সত্যিকার মুসলমানের জন্য এ রকম করা কখনোই উচিত হবে না।
3. যিন্দিক: উপরে উল্লেখিত কমপক্ষে যে কোন একটি বিষয় দ্বারা যদি কেউ কাফের সাব্যস্ত হয় এবং সে তা অস্বীকার করে ও মনগড়া ভাবে শুধু স্বীয় জ্ঞান বা পারিবারিক বা বংশীয় সংস্কার বা রীতি অনুযায়ী বলে যে, ইহা ইসলামে ফরজ বা হারাম নয়; বরং ইসলামে ইহাই ফরজ ও এর নামই প্রকৃত ইসলাম। অপরপক্ষে সত্যিকার ইসলামকে সে বা তারা মিথ্যারোপ করে ; পক্ষান্তরে নিজকে বা নিজেদেরকে বিশ্বাসের সাথে পরিচয় দেয় যে, সে বা তারা মুসলমান। অর্থাৎ মদের বোতলের উপর দুধের সীল মেরে, দুধের বোতল হিসেবে পরিচয় দেয়ার মতো আর কি!! আসলে এ ধরনের ব্যক্তিরা কখনোই মুসলমান নয়। তারাও মূলত কাফের। শরীয়তের পরিভাষায় এ ধরনের কাফেরদেরকে যিন্দিক বলা হয় এবং এদের শাস্তি সাধারণ কাফের ও সাধারণ মুনাফেকের চাইতে আরো অনেক বেশী হবে। কারণ এরা ইসলামকে মানুষ বা বিশ্ববাসীর নিকট ভিন্ন বা বিকৃত ভাবে উপস্থাপন করছে, অথচ আসলে যা ইসলাম নয়। আর মানুষগুলো ইসলামের ভূল বা নিকৃষ্ট পরিচয় পাচ্ছে। এ দলের মধ্যে রয়েছে যেমন কাদিয়ানী গোষ্ঠি এবং বিচ্ছিন্ন সম্প্রদায় বা ব্যক্তিগত ভাবে আরো কেউ থাকতে পারে। যেমন একবার এক লোক আমাকে বলে যে, ফরজ গোসল নামে ইসলামে কিছু নেই। ফরজ গোসল ছাড়াই নামাজ, রোজা ইত্যাদি ঈবাদত গুলো আদায়ের বিধান ইসলামে রয়েছে। মুসলমান নামধারী এ লোকগুলো মানুষের নিকট ইসলামের ভূল ব্যাখ্যা দিয়ে বর্তমানে মুনাফেকদের চাইতেও ইসলাম ও মুসলমানদের বেশি ক্ষতি করছে। তাই এদের শাস্তি সাধারণ মুনাফেকদের চাইতেও বেশি হবে। আবার প্রকৃত যিন্দিক ছাড়াও ইসলামের সাথে শত্রতা বা চক্রান্ত হিসেবে মুনাফেকদেরও আরেকটি পরিবর্তীত, ঘৃণ্য ও জঘন্য রুপ এ রকমও থাকতে পারে। যেমন প্রকৃত যিন্দিক হিসেবে কাদিয়ানী গোষ্ঠির সদস্যবৃন্দ মিথ্যা, বানোয়াট ও শুধুমাত্র স্বীয় মন মগজ অনুযায়ী গোলাম আহাম্মদ কাদিয়ানীকে নবী মানে। আর হযরত মুহাম্মদকে (সা:) শেষ নবী এ কথা মানে না। অথচ বিশ্ববাসীকে এরা মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেয়। আমরা এর তিব্র নিন্দা জ্ঞাপন ও বিরোধিতা করছি এবং সরকারী ভাবে এদেরকে অমুসলিম ঘোষণা দেয়ার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।
(চলবে)

0 Comments