ঈমানের শাখা-প্রশাখার বিবরণ, পাঠ-১
(ধারাবাহিক) ঈমানের 77 টি শাখা রয়েছে। একজন মুমেনকে খাঁটি মুসলমান হতে হলে এ সাতাত্তরটি শাখার সবগুলো শাখায় 100% বিশ্বাস করতে হবে এবং মেনে নিতে হবে ও এ সবগুলোতে পরিপূর্ণ আমল করতে হবে। আর আপনারা এতে আমল করবেন এ উদ্দেশ্যে এ সাতাত্তরটি শাখার সবগুলোর নাম ও প্রয়োজনীয় বিবরণ ধারাবাহিক ভাবে নিম্নে পেশ করলাম। আশা করি এ প্রবন্ধটি সহ এ সংশ্লিষ্ট সবগুলো প্রবন্ধ পড়বেন ও সবগুলো ভিডিও দেখবেন এবং মেনে চলবেন-
1. আল্লাহু তা’য়ালার উপর ঈমান আনা। অর্থাৎ আল্লাহু তা’য়ালা একক। তিনি সর্বশক্তিমান। একক ভাবে সর্বশ্রষ্টা। অনাদি, অনন্ত। তিনি চিরকাল আছেন, চিরকাল থাকবেন। তাঁহার কোন সৃষ্টিকর্তা নাই। তিনিই সকলের সৃষ্টিকর্তা। তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাঁর কোন পিতা-মাতা, ছেলে-সন্তান বা স্ত্রী-পুত্র ইত্যাদি নেই। তিনি জনকও নন, জাতকও নন। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। কোন কাজ করতে তিনি কারো সাহায্য নেন না এবং তিনি হও বললেই যে কোন কাজ বা যে কোন প্রাণ বা যে কোন অবয়ব তাৎক্ষণিক হয়ে যায়। তাঁর কোন সাহায্যের প্রয়োজন হয় না এবং তিনি কারো সাহায্য নেন না বা তাঁকে সাহায্য করতে পারে এ মহা সৃষ্টিজগতের মাঝে এমন কেউ নেই। যেহেতু তাঁর সমকক্ষ আর কেউ নেই ও চোখে দেখি আর না দেখি এ মহা সৃষ্টিজগতের মাঝে সকল সৃষ্টির সৃষ্টিকর্তা তিনি একা। যেখানে কোন কিছুর সৃষ্টিকর্তা হিসেবে বা তাঁর অন্যান্য যে কোন গুণের অধিকারী হিসেবে আর কেউ নেই। তাঁর যে কোন ক্ষেত্রে বা যে কোন কাজে কোন সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। তিনিই সকলের মৃত্যু দাতা এবং পুন:উত্তোলনকারী। যেখানে আর কেউ নেই। সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। যখন কোন কিছু বা কোন সৃষ্টিই ছিলো না, তখন শুধু তিনিই একক ভাবে ছিলেন। আবার যখন তাঁরই ইচ্ছা ও শক্তিতে কেয়ামত হয়ে সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে, তখনও তিনিই থাকবেন; আর কিছু না, আর কেউ না। আমাদের মতো তাঁর কোন আকার-আকৃতি নাই। তাঁর আকার-আকৃতি তাঁর মতো। যা দুনিয়ার জীবনে কোন মানুষ বা অন্যকোন সৃষ্টি দেখতে পায়নি, কোনদিন দেখতে পাবে না; এমনকি এ বিষয়ে কেউ কল্পনাও করতে পারবে না বা কল্পনা করার শক্তি-সামর্থও কারো থাকবে না। তাঁর কোন ক্ষুদা-তৃষ্ণা, ঘুম, মোহ বা আবেগ এসব নেই। এসবের তাঁর প্রয়োজন পড়ে না। তিনি কারো নিকট মাথা নত করেন না। সকলকেই তাঁর নিকট মাথা নত করতে হয়। দুনিয়াতে মানুষের বিষয়ে এবং প্রাকৃতিক ভাবে যা কিছু হচ্ছে অর্থাৎ রোগ, শোক, ক্ষুদা, তৃষ্ণা, সুস্থতা-অসুস্থতা, দূর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, ভূমিকম্প, ঝড়, তুফান, ভূমিধস ইত্যাদি এবং মানুষ দ্বারা সম্পাদিত যে কোন কর্ম মূলত: তাঁরই ইচ্ছায় এবং তাঁরই শক্তিতে ঘটছে। এ ধরনের কোন কিছু তাঁর ক্ষেত্রে ঘটে না বা ঘটার কোন সুযোগ বা উৎস নেই। আমাদের চারপাশে যা কিছু দেখি আর না দেখি সব কিছুই মাখলুক। মাখলুক কিছুই করতে পারে না, তাঁকে ছাড়া। আর তিনি আল্লাহ যা ইচ্ছা তা করতে পারেন মাখলুককে ছাড়া। এসব বিষয়ে 100% ঈমান ও এক্বীন স্থাপন করা।
2. ইহা বিশ্বাস করা যে, মানুষ সহ মানুষের চারপাশের জানা অজানা সকল জিনিসের কোন কিছুরই অস্তিত্ব ছিলো না, এক আল্লাহই সব কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং অস্তিত্ব দান করেছেন।
3. ফেরেশতাদের অস্তিত্বে বিশ্বাস করা।
4. ইহা বিশ্বাস করা যে, মহান আল্লাহু তা’য়ালা যত কিতাব বা সহীফা পয়গম্বরদের উপর নাজিল করেছেন, তার সব কিছূই সত্য। অবশ্য বর্তমানে কোরআনে পাক ব্যতিত অন্যান্য কোন কিতাব বা সহীফার হুকুম বিদ্যমান নেই।
5. ইহা বিশ্বাস করা যে, সকল পয়গম্বর সত্য
6. জগতে বা মানুষের জন্ম, মৃত্যু, হায়াত, রিজিক, সম্মান, অসম্মান ইত্যাদি সকল বিষয়ে বা যে কোন সৃষ্টির বিষয়ে যাহা কিছু হয়েছে, হচ্ছে বা হবে; সবই মহান আল্লাহু তা’য়ালা আদিকাল হতে জানেন এবং তাঁর জানার উল্টা বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছুই হতে পারে না। এই ইয়াক্বিন দেলে বিশ্বাস করা। (ইহাকে বলে তক্বদীরে বিশ্বাস)
7. কিয়ামত নিশ্বয় হবে। পাপ-পুণ্যের বিচার হবে। পুনরায় সকলকে জীবিত হয়ে সমস্ত জীবনের (মানুষ ও জ্বীনের) পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে হিসাব দিতে হবে। পাপের শাস্তি দোযখে, পূণ্যের পুরষ্কার বেহেশতে দেয়া হবে। এগুলোতে বিশ্বাস করা।
8. বেহেশত আছে। এ কথার এক্বীন দেলে বিশ্বাস করা।
9. দোযখ আছে । এ কথায় পূর্ণ বিশ্বাস করা।
10. আল্লাহু তা’য়ালার প্রতি (গাঢ় ভক্তি ও অকৃত্তিম) ভালোবাসা রাখা।
11. আল্লাহু তা’য়ালার সকল নবী-রাসূলদের (আ:) সঙ্গে আন্তরিক ভক্তি ও ভালোবাসা রাখা।
12. কাহারো সহিত দুশমনি বা দোস্তি রাখিলে শুধু আল্লাহু তা’য়ালার জন্যেই রাখা।
13. প্রত্যেক কাজের নিয়ত শুধু আল্লাহু তা’য়ালার উদ্দেশ্যে এবং তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য করা।
14. কোন গোনাহের কাজ হয়ে গেলে, তার জন্য অন্তরে কষ্ট অনুভব করে অনুতপ্ত হয়েমহান আল্লাহু তা’য়ালার কাছে তওবা এস্তেগফার করা।
15. আল্লাহু তা’য়ালাকে ভয় করা।
16. আল্লাহু তা’য়ালার রহমতের আশা সর্বদা রাখা। নিরাশও না হওয়া এবং নির্ভীকও না হওয়া, এভাবে থাকা।
17. মন্দ কাজ করতে [ অর্থাৎ আল্লাহু তা’য়ালা ও তাঁর রাসূল (সা:) এর নীতি বিরুদ্ধ কাজে) লজ্জা করা।
18. আল্লাহু তা’য়ালার নেয়ামতের শোকর করা।
19. অঙ্গীকার পূর্ণ করা।
20. আল্লাহু তা’য়ালার তরফ হতে কোন বালা মুছিবত, রোগ-শোক বা বিপদ-আপদ আসলে ধৈয্য ধারণ ও ছবর করা।
21. নিজকে অপর হতে ছোট মনে করা।
22. সৃষ্ট জীবের প্রতি দয়া (রহম) করা।
23. আল্লাহু তা’য়ালার তরফ হতে যা কিছু হয়, তাতে আন্তরিক ভাবে সন্তুষ্ট থাকা।
24. প্রত্যেক চেষ্টার ফল যে আল্লাহু তা’য়ালার হাতে ইহা বিশ্বাস করে প্রত্যেক ফলের জন্য আল্লাহু তা’য়ালার উপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) করা।
25. নিজের গুণে নিজে গর্বিত না হওয়া। ( নিজের গুণগুলিকে মহান আল্লাহু তা’য়ালার দান মনে করতে হবে)
26. কারো সাথে কপটতা বা মনোমালিণ্য না রাখা।
27. কারো সাথে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ না করা।
28. রাগ না করা।
29. কাহারও অহিত বা অশুভ কামনা না করা।
30. দুনিয়ার ( ধন-দৌলত বা দুনিয়ার প্রভূত্ব-প্রিয়তার) সঙ্গে মুহাব্বত না রাখা।
31. কালেমা শরীফ ( কালিমা তায়্যিবা ও কালিমা শাহাদাত) মুখে স্বীকার করা।
32. কোরআন শরীফ তিলাওয়াত করা।
33. এলমে দ্বীন শিক্ষা করা।
34. ধর্ম বিদ্যা, ধর্ম জ্ঞান শিক্ষা দেয়া।
35. আল্লাহু তা’য়ালার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের মাকছুদগুলির জন্য দো’য়া (প্রার্থনা) করা। (চলবে)

0 Comments